কবিতা :: তুষার কবির

কবিতা :: তুষার কবির

তুষার কবির প্রথম দশকের একজন মেধাদীপ্ত, সক্রিয় ও স্বতন্ত্র স্বরের কবি! অভিনব শব্দঅভিধা ও অনবদ্য চিত্রকল্পের জন্যে তিনি ইতিমধ্যে নিজেকে এ সময়ের বহুমাত্রিক কবি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন! এ যাবত তাঁর ১২টি কবিতার বই ও ১টি কবিতা-বিষয়ক প্রবন্ধের বই প্রকাশিত হয়েছে।

গানঘর

বৃষ্টির ছড়ানো সুরে এ রাস্তায় বেজে ওঠে ফেলে আসা দূরের কিন্নরী! দরবার-ই-কানাড়া বাজতে থাকে মেঘলা সন্ধ্যায় জলভেজা গলির ভেতর। মাথায় বৃষ্টির ছাট নিয়ে হেঁটে যাই হারানো রাস্তায়; জানি, এ বৃষ্টিতে কেউ নাড়বে না কড়া দরজায়, কেয়া ও কামিনী ঘ্রাণে—অধরা বাগদেবীর মতন! তবু বৃষ্টির ছড়ানো সুরে তোমার ঝাপসা মুখ ভেবে ভেবে পার হই এ রাস্তা। দেখি বেঘোর বৃষ্টিতে তুমি সটান দাঁড়িয়ে আছ গলির ভেতর! তোমার শাড়িতে ছাপা আছে এক কেয়াবন যার মাঝে নেচে যায় নিঝুম ময়ূরী! বিজলী চমকে ওঠা আলোতে ভেসে উঠছে তোমার মুখ; জবজবে ভেজা শাড়িতে তোমাকে মধুবালার মতন লাগছে! রিকশায় আঁকা প্রজাপতি আর পুরনো রেডিও গানে তোমাকে দেখছি ভিজে ভিজে পৌঁচ্ছে যাচ্ছ সুরের ডেরায়—যাতে বেজে ওঠে একসাথে বীণা ও বেহালা! ডেরার ভেতর, পাপড়ি ছড়ানো সরোবরে, তুমি সেরে নিচ্ছ নগ্ন স্নান! দূরে, এ বৃষ্টিতে, গানঘর থেকে কেবলই সরোদের সুর ভেসে আসে!

সারগাম

বৃষ্টির সুরেলা শব্দে আমার উঠোনে ঝরে পড়ে সান্ধ্য স্বরলিপি! যশরাজ সুরে সুরে বৃষ্টি পড়ে হিম জানালায়! ছড়ানো সুরের ঘোরে দূর কেয়াবনে বেজে ওঠে নিঝুম সানাই। তোমার শাড়ির ভাঁজে বৃষ্টি ঝরে জলের মাদল হয়ে। বিজলির বিভোর প্রভায় তোমার মুখের রেখা ফুটে ওঠে সান্দ্র তারানায়! শব্দের শরীর জুড়ে বৃষ্টি ঝরে—এ সন্ধ্যায়। ঝরে ভেজা অক্ষরের মাঝে, ধোঁয়াওঠা কফিমগে, রেস্তোরাঁয় মৃদুস্বরে বেজে ওঠা সারগামে—এ সন্ধ্যায় বৃষ্টি ঝরে ঝিম বারান্দায়!

Leave a Reply