তাসনিম সোনালির কবিতা

তাসনিম সোনালির কবিতা

হঠাৎ তুমি
হঠাৎ যদি দরজা খুলে
বৃষ্টি রোদের আগল ঠেলে
থমকে সময় দেখা মেলে
আসলে তুমি স্বপ্ন রেলে।।
তাইতো চোখে ইচ্ছে আঁকি
দাও দেখি দাও কেমনে ফাঁকি
লেনাদেনা অনেক বাকি
এক জীবনে পূরণ হয় কি!

পাথর
অঝর ধারার জল বুক পেতে
শুষে নেয় মাটি,
পাথরে ঢালো জল, গড়ায়ে দেয়
নিবেদন হোক যত খাঁটি।
বহু যুগ পরে–
পাথর যদি মনে করে
ফিরে চাই তারে
সঁপেছিল যে সবটুকু তার আমার তরে।
হায় পাথর, মাটিতে ঝরেছিল জল
সেতো ছিল গুরু মেঘভার নামানোর ছল।
কি শুদ্ধ চিত্তে ঢেলেছিল জল সে পাথরে
গড়ায়ে দিলে সে জল, দেখিল সে কাতরে।
সময়ে নিতে পারোনি যা
বর্ষ যুগ পার করে পাবে কি তা!
আপন গরিমায় যারে তুমি দাওনি ঠায়
মাটি আপনিছে তারে পরম মমতায়।

বিনি সুতায়
ভেবেছিলাম পালিয়ে যাব
আমায় নিয়ে তোমার থেকে,
পালানো কি অতই সহজ
বিনি সুতায় বেঁধেছো যাকে!
ধাঁধাঁয় ভরা জীবন যার
নিটোল সুখের ডুব সাঁতারে
সাধ্য কি যে হবে পার।
সুখ পাখি মন খাঁচাছাড়া
সয় না জ্বালা দিশাহারা,
ঠিক তখনি হঠাৎ শ্রাবণ
আসলে তুমি, ভিজালে মন।

সোনালীবয়স
বয়সেরা যখন নড়েচড়ে বসে
তারা কি সাথে স্মৃতির ঝাঁপি নিয়ে আসে?
আজকাল নিয়ে নেই কোন লেনাদেনা
অতীত নিয়েই যত কথা, যত আলোচনা।
খেলার সাথীরা কে কেমন ছিল
রাসু, মতি, আসু, সাজুদের আজ বয়সই
তাদের কত কাছে এনে দিল।
এতদিন ছিল ভুলে যাদের
সংসার, সমাজ, চাকুরীর চাপে
তারাই এখন সবচেয়ে আপন
চুপটি করে লুকিয়ে ছিল স্মৃতির প্রতি খোঁপে।
মায়ের আঁচল, বাড়িব আঙিনা, শৈশবের মাঠ ছেড়ে
কবেই ঠিকানা হয়েছে এই ইট কাঠের শহরে,
অথচ এই চেনা শহরটাই আজ বড্ড অচেনা
ফেলে আসা সেই স্মৃতির গলিতেই
আজ যত আনাগোনা।

অভিমান

এখন বৃষ্টির দিনে কাউকে মনে পড়েনা;
ভেজা বাতাসে চোখ দুটো কি একটু ভিজে
পুরোনো স্মৃতির কারনে!
বাউলা বাতাসে আউলানো মন
মিছেই কাজের বাহানা খুঁজে।
ঝুম বৃষ্টিতে আর চাইনা ভিজতে
কারো হাত ধরে,
বিষন্ন দুপুরও পার করে দেই
মন কেমন কেমন করে।

খুব বেশি কি ছিল
সেই ছোট ছোট চাওয়া?
ছোট এ জীবনে স্বপ্ন সত্য মিলায়ে
হলনা যা পাওয়া।

 

তাসনিম সোনালি

স্কুল / কলেজঃ হলি ক্রস। আন্তর্জাতিক সম্পরকে অনার্স ও মাস্টার্স । ঢাবি। শিক্ষকতা । বর্তমানে অবসর।

Leave a Reply