আয়শা ঝর্নার অনুবাদ কবিতা

আয়শা ঝর্নার অনুবাদ কবিতা

অ্যান স্যাক্সটনের কবিতা

অ্যান স্যাক্সটন ইংরেজি সাহিত্যে এক অবিস্মরণীয় নাম। নিউইয়র্কের ম্যাসচুসেটস এ ১৯২৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বস্টন এবং ব্র্যান্ডিস ভার্সিটি থেকে পাস করে ১৯৫৭ সাল থেকে লিখতে শুরু করেন। হার্ভার্ড ও র‌্যাডক্লিফে ক্রিয়েটিভ রাইটিং এর ক্লাস নিতেন। ১৯৬৭ সালে লিভ অর ডাই বইটির জন্য পুলিৎজার পুরস্কার পান। ছয়টি কবিতার বই এবং একটি নাটক রয়েছে তার যা মঞ্চস্থ হয় ১৯৬৯ সালে। ১৯৪৮ এ বিয়ে করেন আলফ্রেড মুলারকে। তাদের দু’টি সন্তান ছিল। শনাল পোয়েট্রি লিখতেন। পুলিৎজার প্রাইজ পান তার লিভ অর ডাই বইটির জন্য। সিলভিয়া প্লাথের বান্ধবী ছিলেন। খুব বিষন্নতায় ভুগতেন। আতœহত্যা করেন কার্বন-ডাই অক্সাইড সাফোকেশনে ১৯৭৪ সালে। 

সূর্য

আমি শুনেছি মাছের কথা

যারা সূর্যের জন্য আসছে

যে অবস্থান করছে চিরদিনের জন্য,

কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে

মাছের অ্যাভিনিউ কখনো যায় না ফিরে,

তাদের সব অহংকারী স্থানগুলো তাদের নির্জনতাসহ

যা শোষিত হয়েছে তাদের কাছ থেকে।

 

আমি ভাবি মাছির কথা

যারা আসে তাদের নোংরা গুহা

আর মল­ভূমি থেকে।

প্রাথমিকভাবে তারা স্বচ্ছ,

তারা তামাটে নীল পাখায়

মানুষের কপালে চকচক করে।

পাখি কিংবা অ্যাক্রোবেট নয়

তারা শুকিয়ে যায় ছোট্ট কালো জুতোর মতো।

 

সহজে চিহ্নিত করা যায় এমন প্রাণী আমি

ঠান্ডায় রোগাক্রান্ত, বাড়ির গন্ধ

আমি উন্মুক্ত হই জ্বলন্ত ম্যাগনিফাইং গ্লাসের নিচে।

আমার চামড়ায় সমুদ্রের উচ্ছ¡াস।

  

ও হলুদাভ চোখ,

তোমার তাপ দিয়ে অসুস্থ হতে দাও আমায়

আমাকে জ্বরতপ্ত আর অসম্মত হতে দাও।

 

এখন আমি সম্পূর্ণ রূপ দেয়া

তোমার কন্যা, তোমার মিষ্টি-মাংস

তোমার যাজক, তোমার মুখ, তোমার পাখি

আর আমি তাদেরকে তোমার সব গল্প বলব

যতক্ষণ না আমাকে শায়িত করা হয় চিরতরে

একটি পাতলা ধূসর ব্যানারে।

 

মৃতরাই সত্যি জানে

আমার মায়ের জন্য যে জন্মেছিল মার্চের ১৯০২ এ, মারা যান ১৯৫৯ সালে

এবং আমার বাবা, যিনি জন্মান ১৯০২ এর ফেব্র“য়ারিতে, মারা যান জুনের ১৯৫৯ সালে।

 

চলে গেছেন। বলি আমি চার্চ থেকে বেরিয়ে

কবরের দিকে এগুনো জড় কাফেলাকে অস্বীকার করে

মৃতকে চড়তে দিয়ে একা শববাহনে।

এটা জুন মাস। আমি সাহসী হতে যেয়ে ক্লান্ত।

চলে গেলাম আমরা কেপের দিকে। চাষ করি আমি

নিজে, সূর্য যেখানে নালার ভেতর দিয়ে আকাশ থেকে পড়ে,

যেখানে সমুদ্র দোলায় যেন একটি লোহার গেটকে

আর আমরা ছুঁই। অন্যদেশে লোকজন মরে।

 

প্রিয় আমার, বাতাস বয় যেন পাথর

সাদামনের জল থেকে আর আমরা যখন ছুঁই

আমরা সবটুকু ছুঁই। কেউ একা নয়।

মানুষ খুন করে এর জন্য, কিংবা এরচেয়ে বেশি কিছুর জন্য।

 

আর মৃতদের কী হবে? জুতোবিহীন তারা শুয়ে থাকে

তাদের পাথরের নৌকায়। তারা পাথরের চেয়েও বেশি

যেমন হতে পারে সমুদ্র যদি যায় থেমে। তারা অস্বীকার করে

করুণাকে, গলা, চোখ এবং অঙ্গুলাস্থি।

 

 

এ্যামি লাওয়েলের কবিতা

 

অ্যামি লাওয়েল জন্মকাল ১৮৭৪-১৯২৫। ম্যাসাচুসেসটের ব্রুকলিনে জন্ম তার। ইমেজিস্ট আন্দোলনের পুরোধা। যা পরবর্তীতে অ্যামিসিজম নামে পরিচিতি পায়। ১৯১৪ সালে পুলিৎজার প্রাইজ পান। অ্যামি লাওয়েল ছিলেন বেশ মোটা। এ ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। কখনো বিয়ে করেননি। পরবর্তীতে অভিনেত্রী অ্যাডা ডেইয়ারের সাথে বন্ধুত্ব হয়। পরে তিনি অ্যামি লাওয়েলের সেক্রেটারি হন এবং তাদের বন্ধুত্ব লাওয়েলের মৃত্যাবধি ছিল।

 

কেটিডিডস

লেক মিশিগানের সমুদ্রতট

কেটিডিডস পরিত্যক্ত নিস্প্রভ গাছে

আর আমি ভাবছিলাম তারা ছিল ছোট্ট সাদা কংকাল

বেহালা বাজাচ্ছিল একজোড়া আঙুলের হাড়ে

কতদিন হলো ইন্ডিয়ানরা এখানে হেঁটেছিল

নরম পায়ে চুপিসারে বালির ধারে

কতদিন হলো ইন্ডিয়ানরা এখানে মরে আছে

আর সরে যাওয়া বালি তাদের পরিত্যক্ত করেছিল হাড়ে থেকে হাড়ে?

মৃত ইন্ডিয়ানরা বালির নিচে,

তাদের হাড়গুলো খেলছে ওয়ামপামের শেকড়ের বিপরীতে

নতুন গাছের নতুন শেকড় তাদের কবরকে করেছে ছিন্নবিচ্ছিন্ন,

কিন্তু গাছের ডালপালাগুলোয় ছোট্ট সাদা কংকাল

আওড়ে যাচ্ছে মৃত্যুর মন্ত্রপাঠ আগস্টের রাতে।

 

ট্যাক্সি

যখন আমি তোমাকে ছেড়ে যাই

পৃথিবীকে মৃত মনে হয়

শূন্য পাত্রের ন্যায়।

আমি তোমায় ডাকি তারারাশির বিপরীতে

আর চিৎকার করি বাতাসের ভেতর

রাস্তা দ্রুত ধেয়ে আসে

একটার পর একটা

তোমাকে আমার কাছ থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে

আর শহরের বাতিগুলো আমার চোখ তুলে নিচ্ছে

যাতে করে তোমাকে আর দেখতে না পাই।

কেন আমি তোমাকে ত্যাগ করব?

আমাকে রাতের ব্লেডের নিচে আহত করার জন্য?

 

 

অ্যানটোনিয়া পোজ্জির কবিতা

 

অ্যানটোনিয়া পোজ্জি ১৩ ফেব্র“য়ারি ১৯১২ সালে ইতালির মিলান শহরে জন্মান। মাত্র ২৬ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন। তার মৃত্যুর পর কবিতায় ভরা একটি ডায়েরি পাওয়া যায়। এবং পরবর্তীতে চারটি ভিন্ন এডিশনে কবিতাগুলো ছাপা হয়। প্রথম এডিশনটি ছাপা হয় ১৯১৯ সালে। এর ভূমিকা লেখেন ইউজেনিও মন্টালে।

 

 

ফুল

যেখানে কেউ নেই

কেউ বিক্রি করছে না ফুল

এই দুর্ভাগা দেশে?

 

এবং এই কালো সমুদ্র

এই ধূসর আকাশ

এলোমেলো ঝড়ো বাতাস

ওহ গতকালের ক্যামেলিয়া

সাদা লাল ক্যামেলিয়া হাসছে

সোনালি ক্লস্টারে

একটি বসন্তের মিরেজ

 

 

জাগরণ

কী ছায়া কে জানে সেখান থেকে জেগে উঠলাম

অনেক কষ্টে চেতনাকে জাগ্রত করে

তোমার ওজন তোমার উষ্ণতা

আর রাত্রির কিছু নেই

তোমাকে সমস্যায় ফেলবার মতো

শুধু এই পাগল করা চূর্ণ-বিচূর্ণ

কালো বৃষ্টি

জানালায় বাতাসের কাঁপন

কোথায় ছিল ঈশ্বর?

 

 

বিশ্বাস

তোমার প্রতি রয়েছে আমার অগাধ বিশ্বাস। আমি বিশ্বাস করি

আমি অপেক্ষা করতে পারি তোমার কণ্ঠস্বরের জন্য

নীরবে, শত বছরের

অন্ধকারে।

সূর্যের মতো জানো তুমি সব গোপন

তুমি তৈরি করতে পার জিরানিয়াম ফুল

ফোটাতে পার বুনো জাগারা

পাথুরে খনিতে আর পৌরাণিক

জেলের ভেতরে।

তোমার প্রতি বিশ্বাস আমার অগাধ। আমি এত শান্ত

যেন একজন আরব সাদা বোরফায় আবৃত

ঈশ্বরের কথা শুনছে

যে নিজের বাড়ির চারপাশে তৈরি করে শূন্যতা।

 

(ইতালিয়ান থেকে ইংরেজি-লিনি লনার)

 

 

এটেল আদনানের কবিতা

 

এটেল আদনানের জন্ম বৈরুতে ১৯২৫ সালে। সিরিয়ান মুসলিম বাবা এবং গ্রিক মাতার সন্তান। তিনি প্যারিসের বার্কলে এবং হার্ভার্ড ভার্সিটি থেকে দর্শনে পড়াশোনা করেন। আদনান ক্যালিফোর্নিয়ার সান রাফায়েলের ডোমিনিকান কলেজে আর্ট এবং হিউম্যানিটিতে পড়ান ১৯৫৮ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত। তিনি ফ্রেঞ্চ এবং ইংরেজি দু’ভাষাতেই লিখতেন। তার বারোটির বেশি কবিতা, অনুবাদ এবং ফিকশনের বই রয়েছে। এটেল প্যারিস, লন্ডন, ক্যালিফোর্নিয়া এবং লেবাননে বাস করেন।

 

ক.

বসন্ত ফুলের নিজস্ব

মৃত্যুর জন্য একটি প্রজাপতি আসে

দুটো পাথরের মাঝখানে

পাহাড়ের পাদতলে

তার ওপরে পাহাড় আশ্রয় দেয় ছায়াকে

মৃত্যুর গোপনীয়তাকে ঢাকতে।

 

খ.

সেই ইন্ডিয়ান যার কখনো ঘোড়া ছিল না

 

একটি শব্দ আছে যা কখনো

এটিকে তৈরি করে না।

এটি গড়িয়ে ভেঙে যায়

একজনের দাঁতের অন্তর্গত দেয়ালের

বিপরীতে

হিসহিসিয়ে গেজিয়ে ওঠে

সেই শব্দ যা হলো মৃত্যু।

 

গ.

এখানে

এখানে মানে কী: একটি জায়গা কিংবা একটি ধারণা, ঈশ্বরের চোখের ভেতর দিয়ে একটি বৃত্তকে ফোকাস করা,

হিমায়িত ফ্রেমে মহাজাগতিক ঢেউ, ক্ষণস্থায়ী, নিয়তি নির্ধারিত?

এখানে, যেখানে তাপ উপশম করে, যখন দেহ সমর্পণ করে

আন্তরিক আমন্ত্রণে একে ছোঁয়ার আগেই এবং সেখানে, যেখানে

তাপ ফোটায় চেতনাকে এবং এটি তৈরি হয় হঠাৎ বিদীর্ণতার

 

একটি ক্রিয়ায়; এখানে ফেরার কোনো প্রশ্নই ওঠে না..

Leave a Reply